ওসি প্রদীপ কুমার আত্মসমর্পণ করবেন, কক্সবাজার পুলিশ হেফাজতে নেয়া হচ্ছে

Bangla news


ওসি প্রদীপ কুমার আত্মসমর্পণ করবেন, কক্সবাজার পুলিশ হেফাজতে নেয়া হচ্ছে।

ওসি প্রদীপ কুমার আত্মসমর্পণ করবেন, কক্সবাজার পুলিশ হেফাজতে নেয়া হচ্ছে



সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান কে গুলি করে হত্যা মামলার আসামি টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ কেআত্মসমর্পণ করার জন্য চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। 


চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার মোঃ মাহাবুবুর রহমান এ তথ্য জানায়।
তিনি জানান, চট্টগ্রামের দামপাড়া বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে প্রদীপ কুমার দাশ এসেছিলেন। এখন তাকে পুলিশ হেফাজতে কক্সবাজার নেয়া হচ্ছে। যেহেতু তিনি মামলার আসামি তিনি সেখানে বিচারের আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। 


টেকনাফে শামলাপুর চেকপোষ্টে পুলিশের গুলিতে আত্মহত্যা মেজর সিনহা হত্যা ঘটনায় তার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস হত্যা মামলা দায়ের করেছেন তাতে দুই নম্বর আসামি করা হয়েছে পুলিশ পরিদর্শক প্রদীপ কুমার দাসকে।

শারমিন বুধবার সকালে টেকনাফের বিচারিক হাকিম আদালতে ৯ জনকে আসামী করে মামলা করেন। এরপর বিকেলে টেকনাফ থানা থেকে ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। 

মামলার এক নম্বর আসামি বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলী সহ ২০ জন সদস্যকে আগেই প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে পাঠানো হয়েছে। 


জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তামান্না ফারাহা বুধবার মামলাটি আমলে নিয়ে টেকনাফ থানা কে অভিযোগ থেকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি মামলার তদন্ত ভাড়া দেওয়া হয় র্যাবকে। 


বুধবার রাত সাড়ে দশটায় টেকনাফ থানায় মামলাটি নথিভূক্ত করা হয়। 
তবে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত মামলার নথিপত্র খুঁজে পায়নি জানিয়ে কক্সবাজারে র্যাব ১৫ এর অধিনায়ক উইং কমান্ডার আজিম আহমেদ বলেন দায়িত্ব বুঝে পেলে নিয়ম অনুযায়ী আমরা কাজ করব। 


দুই বছর আগে সেনাবাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়া সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান 'লেটস গো' নামে একটি ভ্রমণ বিষয়ক ডকুমেন্টারি বানানোর জন্য গত প্রায় এক মাস ধরে কক্সবাজার হিমছড়ি এলাকায় ছিলেন । এবং তার সঙ্গে আরো তিনজন ছিলেন তারা নীলিমায় রিসোর্টস উঠেছিলেন। 


গত ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোষ্টে পুলিশের গুলিতে আহত হন মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। 


ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের কথা জানিয়েছে সময় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয় সিনহা তার পরিচয় দিয়ে তল্লাশিতে বাধা দেন। পরে পিস্তল বের করলে চেকপোষ্টে দায়িত্বরত পুলিশ তাকে গুলি করে এবং এই ঘটনায় পুলিশ মামলা করে।

 
কিন্তু পুলিশের এই বাস নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেনাবাহিনী পুলিশ ও প্রশাসনের প্রতিনিধি নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। 
আর মেজর সিনহার বোন শারমিন সিনহা কে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে বুধবারে কক্সবাজার আদালতে মামলা দায়ের করেন। 


এজাহারে শারমিন অভিযোগ করেন ও সেই প্রদীপের ফোনে পাওয়া নির্দেশে বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই লিয়াকত আলী সিনহা কে গুলি করেছিলেন।


9 আসামির হল ওসি প্রদীপ কুমার, বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই লিয়াকত আলী, টেকনাফ থানার এসআই দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল কামাল হোসেন,  আব্দুল্লাহ আল মামুন, শাফানুর করিম, এএসআই লিটন মিয়া, এস আই টুটুল ও কনস্টেবল মোহাম্মদ মোস্তফা।


আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় ইচ্ছাকৃত নরহত্যা ২০১ দাঁড়ায় আলামত নষ্ট ও মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি এবং ৩৪ ধারায় পরস্পর সাধারণ অভিপ্রায় অপরাধ সংগঠনের অভিযোগ আনা হয়। ৩০২ ধারার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।


মামলার প্রধান সাক্ষী করা হয় ঘটনার সময় সিনহার সঙ্গে থাকা শাহেদুল ইসলাম সম্পর্কে। ঘটনার দিনই পুলিশ তাকে মাদক ও অস্ত্র আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করে। 
এছাড়া মামলার সাক্ষী হিসেবে আছেন ৮ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং আইয়ুব আলী নামে একজন সার্জেন্ট।


সিনহা নিহতের ঘটনায় জড়িত সব পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার দাবি জানিয়ে বুধবার ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তাদের সমিতি রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। 


সেনা প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং পুলিশ প্রধান বেনজির আহমেদ কক্সবাজারে গিয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। 


তারপর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন এ ঘটনার সাথে যারা জড়িত শুধু তারাই শাস্তি পাবে। এর দায় কোন বাহিনীর উপর পড়বে না।